ঢাকা,  রোববার   ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

৫৪ বছরের জটিলতার পর কালীবাড়ির নাট মন্দির দখলমুক্তের দাবি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:২০, ৪ অক্টোবর ২০২৬
৫৪ বছরের জটিলতার পর কালীবাড়ির নাট মন্দির দখলমুক্তের দাবি
ঝালকাঠির নাট মন্দিরের জমি উদ্ধারের হয়েছে দাবি জানিয়ে কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণু পদ ধর।

দীর্ঘ ৫৪ বছরের জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ঝালকাঠির শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দিরের নাট মন্দির দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মন্দির কমিটি। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার আগে মন্দিরের এ অংশ ব্যবহারের উপযোগী হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্দির কমিটির নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দখল ও নানা জটিলতার কারণে নাট মন্দিরটি ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছিল। সম্প্রতি সেই পরিস্থিতির অবসান হয়েছে। একই সঙ্গে এ নিয়ে একটি মহলের ষড়যন্ত্রের চেষ্টাও নস্যাৎ হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

মন্দির কমিটির নেতাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারের নির্দেশনা এবং জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেনের সহযোগিতায় নাট মন্দিরটি দখলমুক্ত করা হয়েছে।

Advertisement

তবে দখলমুক্ত করার বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।

জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এটা আমার আওতায় না।’

জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, ‘আমি বারোচালা বা নাট মন্দিরের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেইনি।’

অন্যদিকে মন্দির কমিটির সভাপতি চন্দন পোদ্দারের কাছে আগে কারা স্থাপনাটি দখলে রেখেছিল এবং কীভাবে তা দখলমুক্ত করা হয়েছে, তা জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানোর প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, ‘চাল ব্যবসায়ীরা দখল করে রেখেছিল, অবশেষে দখলমুক্ত হলো।’

তবে চাল ব্যবসায়ীরা তিন মাস আগেই সরে গেছেন বলে উল্লেখ করে এ বিষয়ে আবার জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কাছ থেকে আর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

এদিকে আলোচিত কালীবাড়ির বারোচালার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, শুধু দুর্গাপূজার জন্য স্থানটি কালীবাড়ি মন্দির কর্তৃপক্ষকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি তো জেলা প্রশাসক বা ম্যাজিস্ট্রেট নই যে, উচ্ছেদের নির্দেশ দেবো। বারোচালার ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে কালীবাড়ি মন্দির কমিটি ও জেলা হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ঝালকাঠির অসাম্প্রদায়িক মুসলিম সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। বিশেষ করে শুরু থেকেই সহযোগিতা করায় স্থানীয় মুসলিম সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অসীম রঞ্জন রায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি চন্দন পোদ্দার, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বিষ্ণু চন্দ্র ধর, দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পান্না লাল দে, সাধারণ সম্পাদক ও শহর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন মণ্ডলসহ সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবে জাতি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে ঝালকাঠির শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দিরে এসে উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ঝালকাঠি/এমকে
ট্যাগ: ঝালকাঠি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!