ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

জানাজা শেষে বাড়ির পথে হিমেলের মরদেহ

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৪২, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
জানাজা শেষে বাড়ির পথে হিমেলের মরদেহ
জানাজা শেষে হিমেলের মরদেহ নিয়ে যাচ্ছে বন্ধুরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে জানাজা শেষে বাড়ির পথে হিমেলের মরদেহ। 

বুধবার বেলা ১১টায় জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে নাটোরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে লাশবাহী গাড়ি।

জানা যায়, বাদ যোহর গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাযা শেষে নাটরের নববিতান স্কুলের পাশে দাফন করা হবে।

Advertisement

এর আগে সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে নিয়ে আসা হয়। পরে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মরদেহ রাখা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

পরে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। 

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি বাস শিক্ষার্থীদের নিয়ে নাটোরের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়েছে। শেষবারের মতো হিমেলের সঙ্গী হয়েছে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। 

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ সামগ্রীকারী একটি বেপরোয়া ট্রাক হবিবুর রহমান হলের সামনে মাহমুদ হাবীব হিমেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর

বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। পাঁচ ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবনেও ভাংচুর চালায়। এ সময় প্রক্টর লিয়াকত আলী ঘটনাস্থলে আসলে তাকে ধাওয়া দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। দুঘণ্টা পর মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিন রাতে শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবি তুলে আন্দোলন চালিয়ে যান। দাবিগুলো হলো- প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ নিহতের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া, নিহত শিক্ষার্থীর বোনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি প্রদান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পাল্টানো এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হিমেল নিহতের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিচার করা।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলীকে প্রত্যাহার করেছেন ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টায় প্যারিস রোডে এ ঘোষণা দেন তিনি। 

এসময় উপাচার্য নিহত শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে একসাথে এ সমস্যার সমাধানকল্পে কাজ করার আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় মহানগরের মেয়র এএইসএম খাইরুজ্জামান লিটনসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এরপর আজ বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাড়ে ৯টায় হিমেলের মরদেহ চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা। এরপর পুরো চারুকলা প্রাঙ্গণে নেমে আসে শোকের ছায়া। শিক্ষক এবং বন্ধুবান্ধব কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকে হিমেলের মরদেহের কফিনে পুষ্প দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, প্রো-ভিসি অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, চারুকলা অনুষদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!