ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

৫৩ বছরেও পায়নি স্বীকৃতি, জোহা দিবসকে জাতীয়করণে দাবি

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:০২, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
৫৩ বছরেও পায়নি স্বীকৃতি, জোহা দিবসকে জাতীয়করণে দাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর ও প্রশাসন ভবন

১৯৬৯ সালের ১৭ ফেব্রয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের উপর আইয়ুব খান সরকার হামলা চালায়। সেই হামলায় রক্তে রঞ্জিত হয় কয়েকজন শিক্ষার্থীরা। সেদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ছাত্রদের রক্ত লাগা নিজের শার্ট দেখিয়ে এক শিক্ষক বলেছিলেন- ‘আজ আমি ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত, এরপর কোনো গুলি হলে তা ছাত্রকে না লেগে যেন আমার গায়ে লাগে’। বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালিন প্রক্টর ও গণঅভ্যুন্থানে নিহত প্রথম শহীদ ড. সামসুজ্জোহার কথা। যিনি ছাত্রদের জীবন বাঁচাতে বুক পেতে দিয়েছিলেন হানাদার বাহিনীর বন্দুকের সামনে।

১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি যা ঘটে ছিলো
১৯৬৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হকের মৃত্যুর খবরে দেশব্যাপী গণআন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করার চেষ্টা করে। প্রক্টর শামসুজ্জোহা তখন বুঝতে পারেন আন্দোলনকারী ছাত্ররা মিছিল বের করলে অনেক ছাত্রের প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। তাই তিনি নিজের জীবনবাজি রেখে ছাত্রদের মূলফটক থেকে ফিরে যেতে বলেন। পাক সেনাসদস্যরা তখন মিছিলের সম্মুখভাবে অবস্থান করছিলো। এই সঙ্কটাপন্ন মুহূর্তে ছাত্রদের প্রাণ বাঁচাতে শামসুজ্জোহা নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন সেনাসদস্যদের।

আরো পড়ুন>>> রাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ২২ ফেব্রুয়ারি

Advertisement

বলেছিলেন, ‘দয়া করে গুলি ছুঁড়বেন না, আমার ছাত্ররা এখনই চলে যাবে এখান থেকে।’ কিন্তু সেনা সদস্যরা তার কথা উপেক্ষা করে গুলি চালাতে গেলে ড. জোহা নিজে এগিয়ে যান। তখন তার ওপরই গুলি চালায় সেনারা। রাবির মূল ফটক থেকে বেরিয়ে একটু পূর্ব পাশে রাস্তার অপর ধারে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করে তাকে।

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শায়িত ড. জোহা 
মহান শিক্ষক ড. সামসুজ্জোহাকে সমাহিত করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে। যা এখন জোহা চত্ত্বর নামেই পরিচিত।

ড. জোহার নামে যা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে
শহীদ ড. জোহাকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হলের নামকরণ করা হয় শহীদ শামসুজ্জোহা হল। পবরর্তীতে সেই হলের পশ্চিম পাশে নির্মাণ করা হয়েছে স্ফুলিঙ্গ ভাস্কর্য। এছাড়াও জোহার শহীদ হওয়ার স্থানে (ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে) নির্মাণ হয়েছে ড. শামসুজ্জোহা স্মৃতিফলক।  পাশাপাশি তার মৃত্যুর ৩৯ বছর পর ২০০৮ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করাসহ তার নামে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়। 

রাবিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক দিবস
ড. জোহা নামটি শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত। ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবিতে এই দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। অথচ গণ-অভ্যুস্থানে শহীদ এই ব্যক্তিটির নাম সারাদেশে পরিচিত হওয়ার কথা ছিলো। স্বাধীনতার ৫০ দশক পেরিয়ে গেলেও দিবসটি পায়নি এখনো জাতীয় স্বীকৃতি। আগামীকাল শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হবে দিবসটি। বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিবসটি জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে আসলেও ড. জোহার ৫৩তম শাহাদাত বার্ষিকীতেও জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি মেলেনি এই দিবসের। 

আরো পড়ুন>>> ভালোবাসা আর বসন্তে রঙিন রাবি

ড. শামসুজ্জোহা শহীদ হওয়ার দিনটিকে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক একরামুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারির দিনে রাবিতেই শুধু শহীদ ড. জোহা দিবস পালিত হয়। যেহেত তিনি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী, আর তিনি ছাত্রদের জন্য নিজের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশ সরকার যাতে এই দিবসটিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোহা দিবসকে জাতীয়করণের জোর দাবি জানিয়ে ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারকে বরাবরই দাবি জানাচ্ছি জোহা দিবস ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ হিসেবে পালিত হোক। কারণ শহীদ ড. শামসুজ্জোহা বাংলাদের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। আমরা দিবসটি জাতীয়করণের জন্য আবেদন রেখেছি। এবারেও দিবসটির অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর দাবি জানাব। পাশাপাশি শহীদ ড. শামসুজ্জোহার জীবনবৃত্তান্ত পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্তকরণেও দাবি জানাচ্ছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!