বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন।
তিনি বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৪ ফেব্রুয়ারি আবাসিক হল খোলা ও ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে ক্লাস চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সরকারি কোনো বিধিনিষেধ না থাকলে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে সশরীর ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। তাই আজ থেকে বিভিন্ন বিভাগের শ্রেণি কার্যক্রম সশরীরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
.png)
সশরীর ক্লাস চালু হওয়ায় অনুভূতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা নওরিন বলেন, সেশনজটের বিষয় নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। সশরীর ক্লাস শুরু হয়েছে। আশা করি, খুব দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে পারবো।
জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম বলেন, এমনিতেই দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল ক্যাম্পাস। এরমধ্যে আবার করোনা বেড়ে যাওয়া এবং ক্যাম্পাসে আন্দোলন হওয়ায় ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়গুলো মেনে নেয়া কঠিন ছিলো। ক্যাম্পাস খুলে দেয়া হয়েছে। আশা করি, খারাপ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবো।
উল্লেখ্য, শাবিপ্রবির বেগম সিরাজুন্নেসা হলের (২য় ছাত্রী হল) অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজাকে এক ছাত্রী কল দেয়। এসময় হল প্রভোস্ট ছাত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। নিয়মিত এরকম সমস্যা হওয়ায় ঐ রাতেই ছাত্রীরা ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। রাত আড়াইটার দিকে ভিসি বের হয়ে ছাত্রীদের তাদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। পরদিন ছাত্রীরা তাদের একটি প্রতিনিধি দল ভিসির কাছে পাঠায়। এসময় ভিসি তাদের দাবিগুলো মেনে নেয়ার জন্য একমাস সময় চান। ছাত্রীরা এ প্রস্তাব মেনে না নিয়ে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
পরবর্তীতে আন্দোলনের চতুর্থ দিনেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সন্ধ্যা ৫টার দিকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এতে শিক্ষক, কর্মচারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের উপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ভিসি পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ঐদিন রাতে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।