ভর্তির সাক্ষাৎকারে এসে ভোগান্তি
ভর্তির সাক্ষাৎকার দিতে এসে ভোগান্তির কবলে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। সাক্ষাৎকারের তারিখ অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালিয়ে আসলেও তারা সাক্ষাৎকার দিতে পারেননি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ভর্তি সাক্ষাৎকার দিতে এসে এমন ভোগান্তির কবলে পড়েছেন ভর্তিচ্ছুরা। বিভাগের শূন্য থাকা প্রতিটি আসনের জন্য ১২৬ জন ভর্তিচ্ছুকে সাক্ষাৎকারের জন্য আহবান করে কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সহস্রাধিক ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকরা। কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে এ ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।
.png)
জানা যায়, প্রথম তিন ধাপে মেধা তালিকার ভর্তি শেষে বিভাগের ৮০ টি আসনের মধ্যে মাত্র একজন শিক্ষার্থী ভর্তি হন বিভাগটিতে। ১৪ ফেব্রুয়ারি শূন্য থাকা ৭৯টি আসনে ভর্তির জন্য পৃথক সাক্ষাৎকারের বিজ্ঞতি দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ‘বি’ ইউনিটের ১ হাজার ৪২৬ থেকে ১১ হাজার ৩৫০ মেধাক্রমে থাকা ৯ হাজার ৯২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হতে আগ্রহীদের ডাকা হয়।
শনিবার প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হলেও সকাল থেকে অপেক্ষা করেও সাক্ষাৎকার দিতে পারেনি অধিকাংশ শিক্ষার্থী। পরে বাকি ভর্তিচ্ছুদেরকে সাক্ষাৎকার না নিয়ে শুধু গণস্বাক্ষর নিয়ে ফিরে যেতে বলা হয়। তবে সাক্ষাৎকার ও গণস্বাক্ষরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
স্বল্প সংখ্যক আসনের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক ভর্তিচ্ছুকে সাক্ষাৎকারে আহবাক করায় চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভর্তিচ্ছুরা। এর পেছনে কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তকে দায়ী মনে করছেন ভূক্তভোগীরা।
বিজ্ঞপ্তি দেখে সিলেট থেকে আসা শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম বলেন, অনেক টাকা খরচ করে সাক্ষাৎকার দিতে এসেছি। সকাল থেকে প্রায় সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সাক্ষাৎকার দিতে পারিনি। পরে স্বাক্ষর দিয়ে চলে আসতে হয়েছে। বিভাগ পাব কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এরকম জানলে আমি তো আসতাম না। এতোগুলো শিক্ষার্থীকে ডেকে ভোগান্তিতে ফেলা উচিত না।
কুড়িগ্রাম থেকে মেয়েকে সাক্ষাৎকার দিতে নিয়ে আসা আব্দুর রহিম বলেন, গত রাত আড়াইটায় বিশ^বিদ্যালয়ে এসেছি। সকাল থেকে মেয়েকে নিয়ে অপেক্ষা করার পর শুনি সাবজেক্ট খালি নেই। এভাবে আমাদেরকে ইচ্ছে করেই ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা বলেন, এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সাক্ষাৎকার দিতে আসবে আমরা ভাবতে পারিনি। প্রথমদিকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার ভালোভাবে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের শুধু স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।