মঙ্গলবার দুপুরে নিজ সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন লালমনিরহাটের এসপি আবিদা সুলতানা।
গ্রেফতার আলমগীর হোসেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোস্তফী এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে। তিনি হত্যার শিকার বেলাল হোসেনের সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী লাবনী বেগমের দুলাভাই। নিহত মাইক্রোবাস চালক বেলাল হোসেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার হাড়িভাঙ্গা এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে।
.png)
গ্রেফতার আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসপি আবিদা সুলতানা জানান, শ্যালিকা লাবনী বেগমের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল আলমগীর হোসেনের। গত ২৪ জুন হঠাৎ করে পারিবারিকভাবে লাবনী বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় মাইক্রোচালক বেলালের। এ বিয়ে মেনে নিতে পারেননি লাবনীর প্রেমিক আলমগীর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেলাল হোসনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।
এসপি আবিদা জানান, গত ২৫ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে বেলালকে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ান আলমগীর। এরপর তাকে আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউপির যুগিটারী গ্রামে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের পাশে পাটখেতে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান আলমগীর ও তার সহযোগীরা। এর দুদিন পরে ২৭ জুলাই স্থানীয়দের দেয়া খবরে বেলালের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে আদিতমারী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় পরদিন নিহত বেলালের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এসপি আরো জানান, ‘ক্লু-লেস এ হত্যা মামলাটি আদিতমারী থানার এসআই আনিচুর রহমান আনিচ তদন্ত করে সন্দেহজনকভাবে বেলালের নববধূ লাবনী বেগমকে আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যমতে গতকাল সোমবার সদর উপজেলার বড়বাড়ি এলাকা থেকে আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়। আলমগীরের দেয়া তথ্যমতে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অ্যাডিশনাল এসপি রবিউল ইসলাম, আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনিচুর রহমান আনিচ উপস্থিত ছিলেন।