ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড রুখে দিল শিক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তা

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:৪১, ৯ জানুয়ারি ২০২২
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড রুখে দিল শিক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তা
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার মনিচত্বরে একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় এক শিক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান সবাই।

শনিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে অগ্নিকাণ্ড  ঘটে। বহুতল ঐ ভবনটির নিচের পুরো অংশটিই মার্কেট ও বাকি পুরো ভবনটিই ছাত্রাবাস। 

ঐ শিক্ষার্থীর নাম রোহান। তিনি রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী। এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সেই প্রস্তুতির একটি বই কিনতেই যাচ্ছিলেন বাজারে। এর পরে ঘটনাটি নজরে আসলে ফোন করেন ফায়ার সার্ভিসে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি থেকে বেঁচে যান অনেকেই।

Advertisement

রোহান বলেন, রাত ৯ টার দিকে আমি ঐ ভবনটির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিল্ডিংটির ভেতর থেকে প্রচণ্ড ধোয়া ও আগুন দেখতে পাই। দৃশ্যটি দেখার পরপরই আমি ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করি। অতঃপর তারা এসে দ্রুত আগুন নেভান।

এত দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের নম্বর কীভাবে পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের নম্বর আমার মুখস্থ। এলাকায় যেকোনো দুর্ঘটনা হলেই আমি কল করি। এর আগেও অনেকবার কল করেছি। তাই দ্রুততার সঙ্গে নম্বর ডায়াল করে তাদের খবর দেই।

আরো পড়ুন: পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে যেভাবে ঘুরে বেড়ান দুই স্কুলছাত্রী ধর্ষণের মূলহোতা

ঐ ভবনটিতে বসবাসরত শিক্ষার্থী হাফিজুর বলেন, রাত ৯টার দিকে আমার রুমের দিকে ধোয়া দেখতে পাই এরপর সবাই আগুন আগুন বলে চিৎকার দিতে থাকে। পরে ছাত্রাবাসে থাকা সব ছাত্রই দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। তবে ঐ সময় আমাদের মধ্যে থেকে কেউ ফায়ার সার্ভিসকে কল করেনি। সবাই আতঙ্কে যার যার রুম ত্যাগ করেছে।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার (সদর) এ কে এম তজিবুল বারীর বলেন, রাত সোয়া ৯টার দিকে এক যুবক আমাদের স্টেশনে খবর দেন মনিচত্বর এলাকায় একটি বহুতল ভবনে বা ছাত্রাবাসে আগুন লেগেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে খুব দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনীসহ এসে আগুন নেভানো হয়।

আরো পড়ুন: দুই গারো কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ৪

আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক সক-সার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বারান্দায় একটি খাঁচায় রাখা ২১টি মুরগির মধ্যে ১৫টি মারা যায়। পাঁচটিকে বাঁচানো গেছে। এছাড়া ঘরের কিছু আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও ইলেকট্রনিক্সের জিনিসপত্র পুড়ে যায়। সবমিলিয়ে লাখ টাকার কাছাকাছি ক্ষতি হয়েছে। তবে আগুনটি আশপাশের মার্কেট ও ভবনে ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো ।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএডি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!