তেলিপাড়া গ্রামের এক গৃহস্থ পরিবারের আমিনা বেগম বলেন, জমিতে চার বছর হলো চাষ করতে পারছি না। সেখানে রোহিঙ্গারা বাস করছে তাই। এই জমিতে বছরে দুইবার ধান লাগাতে পারতাম। আর এখন বাধ্য হয়ে চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সারাক্ষণ রোহিঙ্গাদের আতঙ্কে থাকি।
একই এলাকার রোজিনা আক্তার বলেন, আমরা গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি কিছু পালতে পারছি না। সুযোগ পেলেই দিনে দুপুরে সব চুরি করে নিয়ে যায় রোহিঙ্গারা। ভয়ে থাকি কখন রোহিঙ্গারা আমার শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
.png)
টেকনাফের হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি নিজেও আমার জায়গায় তাদের থাকতে দিয়েছিলাম। মানবিক কারণে তাদের সহযোগিতা করছি। প্রায়ই রোহিঙ্গারা শিশু অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছে। বর্তমানে তাদের প্রতি সেই সহানুভূতি আর নেই।
অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পালংখালীর ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দীন চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের জীবনের উপর চেপে বসেছে রোহিঙ্গারা। সমাজের কাঠামোটাই বদলে দিচ্ছে তারা। স্থানীয়দের জন্য কোনো সহায়তার ব্যবস্থা এখনো হয়নি।
মৌসুনীর নয়াপাড়া আদর্শ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, তাদের এই স্কুলে বহু রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। তারা পরবর্তীতে ক্যাম্পে চলে গেলেও তাদের উপস্থিতির প্রভাব স্কুলের পড়াশোনায় এখনো রয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, আমি স্কুলে দ্বিতীয় সাময়িকী পরীক্ষা নিতে পারিনি। স্কুলের শিক্ষকদের বাড়তি খাটিয়ে আমি পরে কভার করেছি।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে নাফ নদী দিয়ে অনেক রোহিঙ্গা নৌকায় করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এলাকাতেই মূলত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় মিলেছে। সরকারি হিসেবে এই এলাকায় ৩৪টি রেজিস্টার্ড ক্যাম্প রয়েছে।