ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নরমাল ডেলিভারিতে স্বস্তি, মৃত্যুর হার শূন্য

লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর 
প্রকাশিত: ১২:৫৯, ৩০ জানুয়ারি ২০২২
নরমাল ডেলিভারিতে স্বস্তি, মৃত্যুর হার শূন্য
লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এ করোনা কালীন সময়ে লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। কমে আসছে সিজারের সংখ্যাও। মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর হার নেমে এসেছে শূন্যের কোটায়। এতে করে দিনে দিনে বেড়ে চলছে রোগীর সংখ্যা। 

অপরদিকে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি। বিনা খরচে ও দুর্ভোগমুক্ত রোগীদের সেবাসহ নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে চিকিৎসক। নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ায় খুশি দায়িত্বরত চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে প্রতিদিন লাইনে দাঁড়িয়ে বিনা পয়সায় টিকেট নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা অসহায় ও দুস্থ নারীরা। পাশাপাশি গর্ভবর্তী নারীরাও এ ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে সেবা নিচ্ছেন। গত এক বছরে গর্ভবর্তী, সাধারণ, শিশু ও কিশোরসহ কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। যেখানে এ ক্লিনিকে প্রতিনিয়ত একাধিক সিজার করা হতো। সেখানে মাসে এখন গড়ে ৮-১০ টা সিজার করানো হয়। এর আগে এ সংখ্যা ছিল চারগুণ।

Advertisement

লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

অপরদিকে নরমাল ডেলিভারি বাড়ছে আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।  গড়ে মাসে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা দেড় শতাধিক। নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি। পূর্বে এ ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালের এমও ক্লিনিকের ডা. আপরওন সুলতানা দায়িত্ব নেয়ার পর পাল্টে যায় চিকিৎসা সেবার চিত্র। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আওতায় ১০ শয্যা বিশিষ্ট্য লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যাণটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

এ দিকে কয়েকজন রোগী ও স্বজনরা জানায়, করোনাকালীন সময়ে অনেক হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া যায় না।  কিন্তু সেখানে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র করোনাকালীন সময়ে যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এটি অনেক প্রশাংসার দাবিদার।

এক সময়ে প্রতিজন রোগী আউটডোর দেখাতে হলে ২০-৩০ টাকা টিকেট করে চিকিৎসক সেবা নিতে হতো। এছাড়া গর্ভবতী মায়েরা প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ক্লিনিকে আসার পর চিকিৎসক ডা. আফরিন সুলতানা সিজার না করিয়ে নরমাল ডেলিভারি করানোর জন্য চেষ্টা করেন। প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজার করতে ২০-২৫ হাজার ও নরমাল ডেলিভারি ৫-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে বিনা পয়সা সে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছে এ ক্লিনিক থেকে। সিজারের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং নরমাল ডেলিভারি সংখ্যা বাড়ায় খুশি রোগী ও স্বজনরা। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি।

লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

দায়িত্বরত নার্সরা জানান, করোনাকালীন সময়ে সবাই মাতৃত্বকালীন ও গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে চিকিৎসার মান অনেক ভালো। রাতদিন কষ্ট করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এক সময়ে কিছু টাকা পয়সা রোগীদের খরচ হলেও এখন বিনা পয়সা সব চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকেন রোগীরা। এটি সম্ভব হয়েছিল ডা. আফরিন সুলতানা যোগদানের পর থেকে। পাশাপাশি সব সময় যেন গর্ভবর্তী মায়েরা নরমাল ডেলিভারি হয়, সেদিকে সবার নজর রয়েছে। এতে করে সবাই খুশি।

লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের এমও ক্লিনিক ডা. আফরিন সুলতানা বলেন, করোনাকালীন সময় থেকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ডেলিভারি সেবা চলমান রয়েছে। সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ডাক্তারদের ২৫% উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের কথা বলা হয়েছে। এবং সে অনুযায়ী মাতৃমঙ্গলের ডাক্তাররা রোস্টার ভিত্তিক সেবা প্রদান করে আসছে।

সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী করোনাকালীন সময় সকল গর্ভবতী কর্মকর্তা কর্মচারীদের সম্পূর্ণভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নিজে একজন ঝুকিপূর্ণ মা হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার আগের মূহূর্তে পর্যন্ত হাসপাতালের সকল সেবা প্রদানসহ ও সিজারিয়ান অপারেশন করে যাচ্ছি। যেখানে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে আমার স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে বিরত থাকার কথা ছিল। অথচ বর্তমানে একটি চক্র অপপ্রচার চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের বদনাম রটানোর চেষ্টা করছে।

এছাড়া বিনা খরচে ও দুর্ভোগমুক্ত রোগীদের সেবাসহ নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন এ চিকিৎসক। পাশাপাশি নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ায় খুশি দায়িত্বরত চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা। প্রতিনিয়ত নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও সকল ধরনের ওষুধ পায় সেটা নিশ্চিত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায়। এরপরও যদি কোনো মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে ক্লিনিকের কোনো কর্মচারীর মাধ্যমে হয়রানি হয়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিবার পরিকল্পনা ও পরিচালক ডা. আশফাকুর রহমান মামুন বলেন, সরকার চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। যার ফলে সাধারণ গর্ভবতী মায়েরা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিনা পয়সায় সেবা পাচ্ছে। দায়িত্বরত চিকিৎসক নার্সসহ সবাই যৌথ আন্তরিকতা এবং প্রচেষ্টায় বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহসহ চিকিৎসা পাচ্ছে। তবে এখনো কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন সুবিধা নিতে চায়। তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!