বুধবার রাতে নগরীর সিআরবি সাত রাস্তার মাথা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির। গ্রেফতার প্রিয়ম চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী গ্রামের বাসিন্দা।
এর আগে, শুক্রবার রাতে চেরাগী পাহাড় এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হন বিএএফ শাহীন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আসকার বিন তারেক ওরফে ইভান। তিনি নগরীর এনায়েত বাজার এলাকার জমির উদ্দিন ম্যানশনের এসএম তারেকের ছেলে।
.png)
ঘটনার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে শোভন নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন নিহত ইভানের বাবা।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ধ্রুব, প্রান্ত, শ্রাবণ, শচীন, রুবেল ও অর্ক।
ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানায়, দু’দিন আগে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে শুক্রবার রাতে মারামারির সূত্রপাত। দু’দিন আগে রাতের বেলা জামালখান এলাকায় সিটে বসা নিয়ে ধ্রুব নামে একজনের সঙ্গে ইভানের বাড়াবাড়ি হয়। পরে সেই বাড়াবাড়ি থেকে মারামারি সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে ইভান ধ্রুবকে চেয়ার ছুড়ে মারেন। এর জেরে ধ্রুব ও তার পক্ষের ছেলেরা শুক্রবার রাতে অমিত নামে ইভানের পক্ষের একজনকে মারধর করে। আহত অমিত চিকিৎসা ও মামলার জন্য থানায় যেতে চাইলে তাকে আটকানো হয়। পরে দু’পক্ষের মধ্যে আবারো মারামারির ঘটনা ঘটে। মারামারিতে ইভানকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শুরুতে ইভানকে চেরাগী পাহাড় মোড়ের আজাদী গলি সংলগ্ন রাজাপুকুর লেনের ভেতরে নিয়ে কয়েক দফা ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে চেরাগী পাহাড়ের মুখে এনে পুনরায় পেটানো হয়। এরপর আহত ইভানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, ঘটনার পাঁচদিন পেরোলেও দুই আসামি বাদে আর কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) জসিম উদ্দিন বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় অংশ নেওয়া চারজনকে চিহ্নিত করেছি। সব আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া গ্রেফতার শোভন হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অপর আসামি প্রিয়মের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, আগে গ্রেফতার হওয়া শোভন ছুরিকাহত। তার পায়ে সাতটি সেলাই রয়েছে। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া যাচ্ছে না। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের চারটি টিম কাজ করছে। ডিবি পুলিশও মাঠে রয়েছে।