একই মামলায় তথ্য গোপন ও আলামত গোপনের দায়ে নিহতের শ্বশুর ফজলুর রহমান এবং শাশুড়ি ফাহিমা বেগমকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলা নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে নাটোরের গুরুদাসপুর থানার পিপলা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে মোঃ ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে বামনবাড়িয়া গ্রামের আমিরুল মণ্ডলের মেয়ে মরিয়ম খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
.png)
২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরিয়মের পরিবার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখতে পান মরিয়মের নিথর দেহ শোবার ঘরে পড়ে আছে। তার গলায় দুই পাশে স্পষ্ট আঙুলের দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, ঘাতক স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা পারিবারিক বিরোধের জেরে মরিয়মকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আমিরুল মণ্ডল বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের উপস্থিতিতে প্রধান আসামি স্বামী ফরহাদ হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর দুই আসামি শ্বশুর ও শাশুড়িকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।