বিয়ের আশ্বাসে আমেনার গর্ভপাতের পর হত্যা করেন বাদশা
চট্টগ্রামের রাউজানে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত সেই নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার নুরুল ইসলাম ওরফে বাদশা, ভোলার মনপুরা উপজেলার গোলাম হোসেনের ছেলে আকতার হোসেন ও নোয়াখালীর হাতিয়া বাজারের রাশেদ মিয়ার ছেলে অটোরিকশাচালক মেহেরাজ ওরফে মিরাজ। এর মধ্যে আকতার হোসেন বর্তমানে নগরীর লালখান বাজার ও মিরাজ রাউজানের জিয়াবাজার এলাকায় থাকেন।
পুলিশ জানায়, ওই নারীর নাম আমেনা বেগম। তবে তাকে সবাই চিনতো রাহি কিংবা শারমিন নামে। কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার নুর হোসেনের মেয়ে শারমিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল একই এলাকার নুরুল ইসলাম ওরফে বাদশার। বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার শারমিনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান বাদশা। একপর্যায়ে শারমিন গর্ভবতী হয়ে পড়লে ফের বিয়ের আশ্বাসে গর্ভপাত করান।
.png)
এ অবস্থায় ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর বাদশার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শারমিন। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান বাদশা।
আরো পড়ুন: বাণিজ্য মেলায় ছাড় দেয়া পণ্যের দিকে বেশি ঝুঁকছেন ক্রেতারা
পরবর্তীতে কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে শারমিন ও তার পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেন বাদশা। রাজি না হলে নানা কৌশলে আবারো দিতে থাকেন বিয়ের প্রস্তাব। এ অবস্থায় একপর্যায়ে রাজি হয়ে মামলা প্রত্যাহার করেন নেন শারমিন। আর মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েই শারমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাদশা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়ে করার কথা বলে গত ১১ নভেম্বর শারমিনকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘির পাড় এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে এনে রাখেন বাদশা। হত্যার পরিকল্পনায় সহযোগিতা পেতে যোগাযোগ করেন পূর্ব পরিচিত আকতার হোসেন ও মেহেরাজ ওরফে মিরাজের সঙ্গে।
এরপর তিনজনের পরিকল্পনায় ১৮ নভেম্বর হোটেল থেকে শারমিনকে বেড়ানোর কথা বলে অটোরিকশায় করে নিয়ে যান কাপ্তাই ও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায়। ঘুরে বেড়ানোর ফাঁকে হত্যার সুযোগ খুঁজতে থাকেন তারা তিনজন। পরদিন ১৯ নভেম্বর কাপ্তাই সড়ক ধরে চট্টগ্রাম শহরের দিকে ফেরার পথে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় একটি নির্জন জায়গায় এসে চেপে ধরেন শারমিনের গলা। পরে ওড়না পেঁচিয়ে গাড়িতেই তাকে হত্যা করেন। এরপর নোয়াপাড়া পথেরহাট থেকে উত্তরমুখী রাউজান-নোয়াপাড়া সেকশন-২ সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে একটি নির্জন স্থানে লাশটি ফেলে যান।
রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুরো হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন আসামিরা। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।