বৃহস্পতিবার আপিলটি নিষ্পত্তি করে রায় দেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায় অনুযায়ী আসামি আব্দুস সোবহানকে নিম্ন আদালতের দেওয়া ৫ বছরের সাজা বাতিল এবং জরিমানা মওকুফ হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, রাজশাহীর অবিভক্ত চারঘাটের ১নং বাজুবাঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন আব্দুস সোবহান। তিনটি হাট-বাজারের লিজ দেওয়া ৪০ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে ১৯৮২ সালের ৯ জুন চারঘাট থানায় মামলা করে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয় একই বছরের ১০ নভেম্বর। বিচার শেষে ১৯৮৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রায় দেন নিম্ন আদালত। রায়ে তাকে ৫ বছরের জেল ও ৪২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
.png)
ঐ রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৮৮ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন আব্দুস সোবহান। আপিলটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের ১৬ জুন মারা যান সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান। কিন্তু আপিলে দুদককে পক্ষ করা হয়নি। পরে দুদক ঐ মামলায় পক্ষ হয়ে শুনানিতে অংশ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে মৃতের বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বাবার মৃত্যুর ২০ বছর পর মামলার আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে এটা জেনে ভালো লাগছে। তবে মামলার সবশেষ আপডেট আমরা জানতাম না। এমনকি কোনো নোটিশও পাইনি। আমার বাবার বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা হয়েছে- তা সত্যি হলে তিনি মৃত্যুর আগে জায়গা-জমি ঘরবাড়ি করে যেতে পারতেন। কিন্ত তেমনটা হয়নি। কিসের ভিত্তিতে মামলা হয়েছিল তা আজও জানতে পারিনি।
আদালতে দুদকের আইনজীবী ছিলেন শাহীন আহমেদ। তিনি বলেন, হাইকোর্ট অনেক পুরনো একটি আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন। এ মামলার আপিলকারী ২০ বছরের বেশি সময় আগে মারা গেছেন। আপিলকারী মারা গেলে আইনের বিধান হচ্ছে দণ্ড ও সাজার ক্ষেত্রে আপিল বাদ হয়ে যাবে, কিন্তু জরিমানা থেকে যাবে। বৃহস্পতিবার জরিমানার বিষয়ে শুনানি শেষে আপিল মঞ্জুর ও নিষ্পত্তি করেছেন ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারান্নুম রাবেয়া (মিতি) বলেন, আপিল মঞ্জুর হওয়ায় আসামিকে নিম্ন আদালতের দেওয়া ৫ বছরের সাজা বাতিল এবং জরিমানা মওকুফ হয়ে গেছে।