ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

শিশুর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলায় সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:০৩, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
শিশুর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলায় সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা
জয়নাল আবেদীন ও তার ভাই মিজানুর রহমান

কক্সবাজারের মহেশখালীতে খৎনা করানোর সময় আট বছরের শিশুর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেন পল্লি চিকিৎসক মো. জয়নাল আবেদিন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো ক্ষতিপূরণ নয় ওই হাতুড়ে চিকিৎসকের শাস্তি দাবি করছে ভুক্তভোগী পরিবার।

এদিকে, কোনো ধরনের সহযোগিতা না করে উল্টো বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অপহরণ মামলা দেওয়ার হুমকি দেন ওই পল্লি চিকিৎসক। তাই ৭ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (মহেশখালী) মামলা করেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা মো. মঞ্জুর আলম।

আরো পড়ুন: ৯ ঘণ্টা একান্ত সময় কাটিয়ে ভিন্ন রূপে ‘কামরুল’, কী ঘটেছিল সেই তরুণীর ভাগ্যে

মামলায় পল্লি চিকিৎসক ৩৫ বছর বয়সী জয়নাল আবেদীনকে প্রধান করে তার সহযোগী ২৮ বছরের মিজানুর রহমানকে আসামি করা হয়। এর আগে, গত বছরের ২৮ নভেম্বর দুপুরে মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালীর সিপাহীর পাড়ার মেসার্স ‘জাহেদ মেডিকো’তে এ ঘটনা ঘটে।

শিশুটির বাবা মো. মঞ্জুর আলম মহেশখালীর গোরকঘাটা পুটিবিলার আবুল কাশেমের ছেলে। আর মামলায় প্রধান আসামি জয়নাল আবেদীন একই উপজেলার ছোট মহেশখালী সিপাহীর পাড়ার মো. ইসলামের ছেলে ও মিজানুর রহমান ওই চিকিৎসকের ছোট ভাই। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন মিজানুর।

মঞ্জুর আলম জানান, তার আট বছরের সন্তানের খৎনা করানোর সময় কাঁচি দিয়ে পুরুষাঙ্গের বড় অংশ কেটে ফেলেন পল্লি চিকিৎসক জয়নাল আবেদিন। এ সময় তার সন্তান অজ্ঞান হয়ে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কক্সবাজার শহরের প্রাইভেট হাসপাতাল ফুয়াদ আল খতিবে ভর্তি করা হয়। ওখানে তিনদিন চিকিৎসার পরও সন্তানের কোনো উন্নতি না হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও তিনদিন চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রামেই আরেকটি প্রাইভেট হাসপাতাল ‘এভার কেয়ার’এ ভর্তি করা হয়। ওখানে একদিন চিকিৎসার পর খরচ যোগাতে না পেরে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। এরপর থেকে বাড়িতে রেখে যতটুকু পারেন চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ১৪ জানুয়ারি ওই প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়ার কথা থাকলেও টাকার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ বাঁচা-মরার ব্যাপার হয়ে যাওয়ায় ঋণ করে শিশুটিকে চিকিৎসা করানো হচ্ছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

একদিকে টাকার সংকট অন্যদিকে শিশুর করুণ অবস্থা। শিশুটির এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা হওয়ার পরও পল্লি চিকিৎসক জয়নাল আবেদীন কোনো সহযোগিতা করছেন না। সন্তানের এ দুরবস্থার কারণে বাবা-মা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

শিশুটির বাবা আরো জানান, ওই চিকিৎসক কোনো সহযোগিতা করছেই না বরং হুমকি দিচ্ছে এ ব্যাপারে বেশি বাড়াবাড়ি করলে অপহরণ মামলা দিয়ে আমাদের ফাঁসানো হবে।

শিশুটির মা রাশেদা খানম বলেন, এখনো জানি না আমার সন্তান আদৌ বাঁচবে কি না? কোনো ক্ষতিপূরণ চাই না। বিচার চাই। যেন এ ভুয়া চিকিৎসকের হাতে আর কোনো মায়ের সন্তানের এমন অবস্থা না হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, মো. জয়নাল আবেদিন সার্টিফিকেটধারী পল্লি চিকিৎসক নন। তিনি একজন ভুয়া হাতুড়ে ডাক্তার। তার লেখাপড়ার যোগ্যতা নেই বললেই চলে। এক চিকিৎসকের সহযোগী থেকে চিকিৎসক বনে গেছেন তিনি। মূলত খৎনাই করায় এবং সারা বছর একই ধরনের ওষুধই লিখেন তিনি।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, যদি এমন হয়ে থাকে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবি আবুল কাশেম আবু জানান, এই ঘটনায় সি-আর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!