ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

 স্ত্রীকে ঢাকায় নিয়ে হত্যা, পরিবারে শোকের মাতম

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০০, ১৯ জানুয়ারি ২০২২
 স্ত্রীকে ঢাকায় নিয়ে হত্যা, পরিবারে শোকের মাতম
সুমাইয়া ও তার কোলের শিশু: ফাইল ছবি

সুমাইয়ার মাকে গত ১৩ জানুয়ারি অনুমান রাত সোয়া ১১টার দিকে ফোন করেন ওমর ফারুক। অপরপ্রান্ত থেকে জানানো হয়, আপনার মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছি। আপনারা এখনই ঢাকায় আসেন। আপনার মেয়ের অবস্থা বেশি একটা ভালো না।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় তাদের ভাড়া বাসায় গিয়ে জানতে পারে সুমাইয়া ও তার স্বামী ওমর ফারুকের সঙ্গে সাংসারিক বিষয় নিয়ে প্রতিদিনই তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হতো। এমনকি মারা যাওয়ার দিনও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সেই জের ধরে সুমাইয়া তার ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রতিবেশীদের জানান স্বামী ওমর ফারুক। 

পরে পার্শ্ববর্তী রুমের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করে আইসিইউতে পাঠান। ১৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎস্বাধীন অবস্থায় সুমাইয়ার মৃত্যু হয়। সুমাইয়াকে হত্যা করার জন্যই তার স্বামী ওমর ফারুক পরিকল্পিতভাবেই স্ত্রীকে ঢাকায় নিয়ে হত্যা করেছে বলে দাবি করে সুমাইয়ার মৃত্যুর বিষয়টি সন্দেহ হয় তারা বাবা মনিরুজ্জামান তালুকদারের। এ ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন তিনি। 

Advertisement

সন্তানকে হারিয়ে এখন পাগল প্রায় সুমাইয়ার বাবা মনিরুজ্জামান ও মা। অনাহার ও অর্ধাহারেই বিলাপ করে সময় কাটছে সুমাইয়ার নিকটাত্মীয়দের।

২০২০ সালের অক্টোবর মাসে ঝালকাঠির খাগুটিয়া গ্রামের মনিরুজ্জামান তালুকদারের মেয়ে সুমাইয়া আফরিন (১৯) এর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিলো ঝালকাঠির সুগন্ধিয়া গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে ওমর ফারুক এর সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী ওমর ফারুক যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময় সুমাইয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে প্রায় সময় সুমাইয়া তার শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসতো। পরে তাকে বুঝিয়ে কয়েকবার পুনরায় তার শ্বশুরবাড়িতে দিয়েও এসেছিলেন বাবা মনিরুজ্জামান।

বাবা মনিরুজ্জামান বলেন, সুমাইয়ার জামাই ওমর ফারুক ঢাকার সদর ঘাটে কাপড়ের ব্যবসা করতো। সেই সুবাদে সুমাইয়াকে পরিকল্পিভাবে মারার জন্য মৃত্যুর ১৯ দিন আগে যাত্রাবাড়ীতে একটি বাসায় ভাড়া উঠেন ৬ মাসের সন্তানকে নিয়ে সুমাইয়াসহ। তবে স্ত্রীকে ঢাকায় নিয়েও প্রায় দিনই যৌতুকের টাকা ও সন্তানকে স্বর্ণের চেইন না দেওয়ার কারণে মানসিকভাবে অত্যাচার করতো ওমর ফারুক। এমনকি সুমাইয়া মারা যাওয়ার আগের দিনও তার স্বামী তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন বলে সুমাইয়া তার মাকে ফোন করে জানিয়েছিল। 

এ বিষয়ে ওমর ফারুকের বড় ভাই ফোরকান বলেন, যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক অথবা মানসিক নির্যাতন করা হয়নি। এমনকি তাকে হত্যাও করা হয়নি। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের কারণে আত্মহত্যা করেছে। 

তিনি আরো বলেন, লাশের ময়নাতদন্তের রির্পোটে যদি আসে আমার ভাই তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। তাহলে আদালত যে বিচার করবে সেটাই আমরা মেনে নেব।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকতা এসআই মাহমুদা রহমান বলেন, হত্যার অভিযোগ এনে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে  সোপর্দ করেছি, আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। লাশে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!