বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিকআপ ভ্যানে গাড়িবহর নিয়ে হিমেলের মরদেহ নাটোর শহরের কাপুড়িয়াপট্রি (নানা বাড়ির পার্শ্বে) নববিধান উচ্চ বিদ্যালয়ে চত্ত্বরে রাখা হয়। এ সময় হিমেলের কফিনে ফুলের শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। এ সময় ফুলে ফুলে হিমেলের কফিন ভরে যায়। হিমেলের মরদেহের সঙ্গে রাবির ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু, প্রোভিসিসহ শিক্ষক এবং তার সহপাঠীরা আসেন।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে নাটোর পুরাতন বাস টার্মিনাল পৌর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজের জানাযা শেষে তাকে গাড়ীখানা গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
.png)

নিহত মাহবুব হাবিব হিমেল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। নাটোর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও নাটোর নবাব সিরাজ দৌলা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ছোটবেলা থেকেই নাটোরের নানার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন এই শিক্ষার্থী।
জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ক্যাম্পাসের হাবীবুর হলের সামনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাক চাপায় তিনি নিহত হন। এ সময় দুর্ঘটনায় খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা ৫-৬ টি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়াও তারা ক্যাম্পাসে ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। এদিকে তার মৃত্যুর খবর নাটোরে পৌঁছালে তার নানার বাড়ি নাটোর শহরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহত হিমেলের মামা মো. মুন্না বলেন, হিমেলের অল্প বয়সে দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়া মেনে নেয়া কষ্টকর। আমার বোন আগে স্বামীহারা ছিলেন, আর এখন সন্তানহারা হয়ে গেলেন। এই কষ্ট মেনে নেয়া কঠিন। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকে নজর দিতে হবে। আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি হয়ে না যায়।
এ সময় হিমেলকে শেষ বিদায় জানায় তার সহপাঠীরা। তারা বলেন, আর কত শিক্ষার্থী মারা গেলে সড়কে নিরাপত্তা আসবে। এটা হাইওয়ে ছিল না।