আর এই ঘটনার ৪দিনের মাথায় ঐ নারী ও তার স্বামীসহ তিনব্যাক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে দাবি জেলা পুলিশের। রোববার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম।
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) মনোহরদী থেকে অজ্ঞাতনামা পরিচয় হিসেবে মিঠু হোসেন এর লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
.png)
পুলিশ আরো জানায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রায়পুর রেলওয়ে কলোনির মুসলিম উদ্দিনের ছেলে মো. মিঠু হোসেন অনলাইনে শাড়ি কাপড়ের ব্যবসা করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হওয়া দুই বন্ধুর ভরসায় নরসিংদীর সেখেরচর বাবুরহাটের শাড়ির ব্যবসা বিষয়ে ধারণা নিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সিরাজগঞ্জ থেকে নরসিংদীতে আসে মিঠু হোসেন। নরসিংদী পৌঁছে বুধবার সন্ধ্যায় মিঠুর পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন। পরে রাতেই মিঠুর মোবাইল থেকে কল দিয়ে কয়েকজন অপরিচিত লোক জানান তারা মিঠুকে অপহরণ করেন। এ সময় পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। রাতে মিঠুর মোবাইল থেকে থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায় ৫০ বারের মত কথা বলার পর থেকে মোবাইলটি বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকালে মনোহরদীর একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের হুগলিয়াপাড়া এলাকার একটি খড়ের গাদার পাশ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে মিঠুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
উদ্ধারের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জ থেকে মনোহরদী থানায় গিয়ে ছবি দেখে মরদেহটি মিঠুর বলে শনাক্ত করেন তার পরিবারের সদস্যরা। পরে এই হত্যার রহস্য উদঘাটনে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাঠে নামে নরসিংদী জেলা পুলিশ।
রোববার সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম জানান, মিঠুকে অপহরণ ও হত্যায় জড়িত সন্দেহে রোববার ভোরে গাজীপুরের শ্রীপুর ও নরসিংদীর শিবপুর থেকে শাহনাজ আক্তার পপি ও তার স্বামী আব্দুল বাতেন ও কাকন খান নামে তিনব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, গ্রেফতারকৃত পপির সঙ্গে ফোনে কথা বলা ও ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপণ দাবি করে না পেয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় জড়িত তার স্বামীসহ সহযোগী প্রতারক চক্র। এই চক্রের মূল হোতা হানিফ নামে আরো একজন বলে জানায় শাহনাজ আক্তার পপি।
কাজী আশরাফুল আজীম আরো জানান, গাজীপুরের শ্রীপুরের মিঠালু এলাকার শাহনাজ আক্তার পপি ও তার স্বামী আব্দুল বাতেন, শিবপুরের দুলালপুরের আশুটিয়া এলাকার কাকন খানসহ ৩-৪ জনের একটি প্রতারক চক্র রয়েছে। এই চক্রের দলপতি হিসেব শাহনাজ আক্তার পপি নিজের ছদ্মনাম ব্যবহার করে সুন্দরী মেয়েদের ছবি ব্যবহার করে একাধিক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে। এসব আইডিতে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও আপলোড করে বিভিন্ন লোকজনকে টার্গেট করা হতো। এভাবে বিভিন্ন লোকদের ফ্রেন্ডরিকুয়েস্ট পাঠিয়ে প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় দেখা করার প্রস্তাব দেয়া হতো। তাদের ফাঁদে পা দিয়ে কেউ এগিয়ে আসলে তাকে আটক করে মারধর ও মুক্তিপণ দাবি করা হলো এই চক্রের কাজ।
এরই ধারাবাহিকতায় পপির প্রেমের ফাঁদে পড়ে সিরাজগঞ্জেঞ্র মিঠু হোসেন।পপি তার সহযোগী প্রতারক চক্রের মাধ্যমে মিঠু হোসেনকে অপহরণ করে শিবপুরের আশুটিয়ার অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটক করে। পরে মোবেইলে তাদের দাবিকৃত মুক্তিপণ না পেয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যদের হাতে আশুটিয়া এলাকায় খুন হয় মিঠু। হত্যার তার লাশ গুম করতে মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের হুগলিয়াপাড়া এলাকার একটি খড়ের গাদার পাশে রাখা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত শাহনাজ আক্তার পপি, তার স্বামী আব্দুল বাতেন ও কাকন খান নামে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করার পর বাকী সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।