ঢাকা,  শনিবার   ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মাটিরাঙ্গা হর্টিকালচার সেন্টারে ঝুলছে ‘চাইনিজ ল্যান্টার্ন’

মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:১৭, ৩ অক্টোবর ২০২৬
মাটিরাঙ্গা হর্টিকালচার সেন্টারে ঝুলছে ‘চাইনিজ ল্যান্টার্ন’
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সবুজের কোল চিরে হঠাৎই এক টুকরো রঙিন বিস্ময়! খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা হর্টিকালচার সেন্টারের প্রবেশদ্বারে পা রাখতেই অভ্যর্থনা জানায় ডালে ডালে ঝুলতে থাকা লালচে-কমলা এই ফুলগাছটি। দূর থেকে মনে হয় যেন সারি সারি লণ্ঠনের মেলা, আর কাছে গেলে মনে হয় বৃক্ষকন্যার কানে দুলছে প্রকৃতির নিজস্ব রঙিন ঝুমকো!

প্রকৃতির এই শিল্পকর্মের নাম ‘চাইনিজ ল্যান্টার্ন’। দেশে এটি ‘লণ্ঠন জবা’ বা ‘লণ্ঠন ফুল’ নামেও পরিচিত। মণিপুরি সম্প্রদায়ের কাছে এর নাম ‘পুতুল’। বৈজ্ঞানিক নাম Callianthe picta, ইংরেজিতে ‘পেইন্টেড ম্যালো’ নামেও ডাকা হয়। এর আদি নিবাস লাতিন আমেরিকার দক্ষিণ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতে। 

এ ফুলের আসল বৈশিষ্ট্য তার বিন্যাসে। অন্য ফুলের মতো এটি ডালের ডগায় একা ফোটে না। অর্থাৎ পত্রকক্ষ থেকে একটি করে ফুল নিচের দিকে ঝুলে পড়ে। ফুলের গড়ন ছোট ঘণ্টা, রাজকীয় ঝুমকা কিংবা উৎসবের কাগজের লণ্ঠনের মতো। একসঙ্গে শত শত ফুল ফুটলে ডাল ও পাতার ফাঁকে তৈরি হয় ঝুলন্ত ফুলের এক অপরূপ কোলাজ। ফুলের রং লাল, সাদা, হলুদসহ নানা রকম হয়। পাতার গাঢ় সবুজের পাশে উজ্জ্বল লালচে-কমলা রঙের বৈপরীত্য গাছটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। 

Advertisement

দেখতে জবা ফুলের মতো মনে হলেও এই গাছের পাতা জবা গাছের মতো নয়। এটি ইনডোর ও আউটডোর উভয় পরিবেশেই সহজে মানিয়ে নিতে পারে। গাছটি বেশ স্পর্শকাতর। কড়া রোদ একেবারেই সইতে পারে না। আলো-ছায়ার স্নিগ্ধ পরিবেশেই এটি সবচেয়ে সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে। অল্প পরিচর্যাতেই বেড়ে ওঠে বলে শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে সহজেই নজর কাড়ে। অনুকূল আবহাওয়া পেলে বহু বছর বেঁচে থাকতে পারে গাছটি। 

মাটিরাঙ্গা হর্টিকালচার সেন্টারের প্রবেশদ্বারে শুভ্র আলো ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই একটিই বৃক্ষ যে এখন রূপের পসরা সাজিয়ে দর্শনার্থীদের প্রথম ও প্রধান আকর্ষণ। সীমানায় পা রাখতেই তার অনন্য রূপ দেখে নিমেষেই থমকে দাঁড়ায় পথচলতি মানুষ; কেউ বিমুগ্ধ নয়নে শুষে নেয় প্রকৃতির এই অপূর্ব উপহার, কেউবা স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি করে নেয় সেই ক্ষণিক মায়ালোক। বিশেষ করে শিশু আর প্রকৃতিপ্রেমীদের ব্যাকুল কৌতুহলে যেন এই গাছের প্রতিটি পাতায় ছড়িয়ে পড়ে দূরন্ত কৌতূহলের গুঞ্জন।

দর্শনার্থী সুফিয়া বেগম বলেন, “দূর থেকে মনে হয়েছিল গাছে কে যেন ছোট ছোট লাইট বা লণ্ঠন টাঙিয়ে রেখেছে। কাছে গিয়ে অবাক হয়ে দেখলাম এগুলো তো তাজা ফুল! পাতার গোড়ায় গোড়ায় এমন নিখুঁতভাবে ফুটে আছে যে ঠিক কানের ঝুমকার মতো লাগে। এমন অদ্ভুত ফুল আগে কখনো দেখিনি।”

হর্টিকালচার সেন্টারের শ্রমিক আব্দুস সামাদ বলেন, “লণ্ঠন জবা দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। অল্প পরিচর্যাতেই গাছটি বেড়ে ওঠে ও ফুল দেয়। ঝুলন্ত ফুলগুলো সহজেই মানুষের নজর কাড়ে।”

মাটিরাঙ্গার উদ্যানতত্ত্ববিদ আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, “শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদের ক্ষেত্রে শুধু ফুলের চমৎকার রংই শেষ কথা নয়। ফুলের আকৃতি, অবস্থান ও ডালে তার সাজানো বিন্যাসও খুব গুরুত্বপূর্ণ। চাইনিজ ল্যান্টার্নের ক্ষেত্রে পাতার গোড়া থেকে ঝুলন্ত রূপই এর প্রধান নান্দনিকতা। ফুলগুলো একসঙ্গে ফুটলে দূর থেকেই যে কারও নজর কেড়ে নেয়।”

নানা প্রজাতির ফলদ, বনজ ও শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদে ঘেরা হর্টিকালচার সেন্টারের নিবিড় সবুজে এই ফুল যোগ করেছে এক অনাবিল নান্দনিক মাত্রা। দূর থেকে যা লণ্ঠনের দীপ্তি, কাছে গেলে তা-ই রঙিন ঝুমকার মেলা। প্রকৃতির এই অপূর্ব সৃষ্টি মাটিরাঙ্গা হর্টিকালচার সেন্টারের প্রবেশদ্বারকে করে তুলেছে আরও প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাটিরাঙ্গা/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!