মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের বাড়িতে বিষয়টি জানাজানি হয়। নিহত বাংলাদেশি যুবক বশির আহমেদ কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পৌর এলাকার তুলাতলী গ্রামের মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
পারিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান বশির আহমেদ। ৪ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট তিনি। সেখানের একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন বশির। ওই কোম্পানিতে পাকিস্তানি কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় তার। বন্ধুত্বের সুবাদে কোম্পানির একটি ক্যাম্পে তারা একসঙ্গে থাকতেন। রোববার রাতে পাকিস্তানি বন্ধুরা ওই শহরের কোনো এক নির্জন জায়গায় নিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন তাকে। রাতে ক্যাম্পে না ফেরায় নিকটবর্তী থানায় যোগাযোগ করেন বশিরের আত্মীয়-স্বজন। পরে সৌদি পুলিশ এ ঘটনায় এক পাকিস্তানি যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বশিরকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন এক পাকিস্তানি যুবক। এ ঘটনায় পুলিশ এক বাঙালিসহ দুই পাকিস্তানি যুবককে আটক করেছে।
.png)
আরো পড়ুন: হত্যার সময় দেখে ফেলায় মেয়েকে অপহরণ-গুম, বাবার যাবজ্জীবন
বশিরের বড় ভাই সৌদি প্রবাসী মোজাম্মেল হক জানান, রোববার রাতে পাকিস্তানি কয়েকজন শ্রমিক তাকে কোভিড টিকা দেওয়ার কথা বলে রুম থেকে ডেকে নেয়। ওই রাতে রুমে ফেরেনি আমার ভাই। তার রুমে থাকা অন্যরা আমার ভাই সম্পর্কে জানতে চান পাকিস্তানিদের কাছে। তখন ওই পাকিস্তানিদের কেউ বলে হাসপাতালে আছেন, আবার কেউ বলেন বন্ধুর রুমে আছেন। তাদের কথায় গড়মিল থাকায় পরদিন সোমবার বিকেলে ওই রুমে থাকা অন্যরা পুলিশকে ঘটনাটি জানায়। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ দুই পাকিস্তানি ও এক বাঙালি যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মোজাম্মেলের দাবি, আমার ভাই কয়েক মাস বাড়িতে টাকা পাঠায়নি। তার কাছে অনেকগুলো টাকা ছিল। ওই টাকার লোভে আমার ভাইকে গলা কেটে হত্যা করেছে পাকিস্তানিরা।
নিহতের পিতা ছিদ্দিকুর রহমান জানান, আমার ছেলে প্রতিদিন কয়েকবার বাড়িতে ফোন করতো। রোববার রাত থেকে আমার ছেলে ফোন করেনি। সোমবার আমরা ফোনে কথা বলার জন্য চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সংযোগ পাচ্ছিলাম না। মঙ্গলবার রাতে জানতে পারি আমার ছেলেকে পাকিস্তানিরা গলা কেটে হত্যা করেছেন।
এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুন নাহার জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার জন্য আমরা সহযোগিতা করবো।